দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে কাটাখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট এ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেন শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে এ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় কামারেরচর ইউনিয়নের সাহাব্দীরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার কাটাখালী খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
গত ১৩ মে পয়েস্তিরচর এলাকায় প্রকল্পের খননকাজের উদ্বোধন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩০ জুন কাজ শেষ হয়।
প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা সূত্রে জানা যায়, খননকাজে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। এতে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভরাট খালটি পুনরায় সচল হয়েছে।
শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সদস্যসচিব রকিবুল হাসান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি সরে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি কমলে সেগুলো মেরামত করা হবে।
ইউএনও আসমা বিনতে রফিক বলেন, কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের কারণে পরিবেশও উপকৃত হবে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রকল্পের সুফল ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষ পেতে শুরু করেছেন। খালে নৌকা চলাচল করছে এবং দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকদের সেচসংকট কমার পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি ভালো দৃষ্টান্ত।
যে আই